নয়াদিল্লি: দেশের ভোটার তালিকাকে আরও স্বচ্ছ করতে নির্বাচন কমিশন এবার বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। ভুয়ো ভোটারদের সমস্যা কমাতে ভোটার কার্ডের (EPIC) সঙ্গে আধার সংযুক্তির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দিল্লিতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যদিও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, এই সংযুক্তি এখনো বাধ্যতামূলক নয়, তবে নির্বাচন কমিশন মনে করছে, এতে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বাড়বে। মঙ্গলবার দিল্লিতে এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন মন্ত্রকের পরিষদীয় সচিব, তথ্য-প্রযুক্তি সচিব এবং UIDAI-এর সিইও।
ভুয়ো ভোটার ঠেকাতে আধার সংযুক্তির সিদ্ধান্ত
দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ উঠেছে যে, একজন ব্যক্তি একাধিকবার ভোটার তালিকায় নাম তুলছেন বা ভুয়ো পরিচয়ে ভোট দিচ্ছেন। এর ফলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নষ্ট হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন মনে করছে, আধার-ভোটার সংযুক্তি করা হলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। ফলে ভুয়ো ভোটারদের সহজেই চিহ্নিত করা যাবে এবং একজন নাগরিকের একাধিক জায়গায় ভোটার হওয়ার সুযোগ থাকবে না। ওপরদিকে নির্বাচনী জালিয়াতির হারো কমবে এবং ভোটার তালিকা আরও নির্ভুল হবে।
কীভাবে ভোটার কার্ডের সঙ্গে আধার সংযুক্ত করা যাবে?
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নাগরিকরা চাইলে অনলাইন ও অফলাইন উভয় পদ্ধতিতেই তাদের ভোটার কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড সংযুক্ত করতে পারবেন।
অনলাইনে সংযুক্ত করতে হলে নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://voters.eci.gov.in/ গিয়ে ভোটার আইডি (EPIC নম্বর) ও আধার নম্বর প্রদান করতে হবে। এরপর OTP যাচাইয়ের মাধ্যমে সংযুক্তি সম্পন্ন করা যাবে।
অফলাইনে সংযুক্ত করতে হলে নিকটস্থ ভোটার রেজিস্ট্রেশন অফিসে গিয়ে ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে। সঙ্গে আধার কার্ডের কপি জমা দিতে হবে।
জনগণের প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি বাস্তবায়ন হলে ভোটার তালিকা আরও স্বচ্ছ হবে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে। তবে কিছু মানুষ ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধার-ভোটার সংযুক্তির মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসতে পারে, তবে তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, এটি বাধ্যতামূলক নয়, তাই নাগরিকদের ওপর কোনো চাপ নেই।
আইনি দিক এই সংযুক্তি নিয়ে এখনো কিছু আইনি প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার দিকটি আগে নিশ্চিত করা দরকার। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যে জানিয়েছে, এটি বাধ্যতামূলক করা যাবে না, তবে যারা ইচ্ছুক, তারা স্বেচ্ছায় এই সংযুক্তি করতে পারেন।
ওপরদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত দিকগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং শিগগিরই নতুন নীতিমালা প্রকাশ করা হতে পারে। সংযুক্তি কার্যকর হলে ভোটার তালিকা আরও স্বচ্ছ হবে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আসবে।
ভোটার কার্ডের সঙ্গে আধার সংযুক্তির প্রক্রিয়া কার্যকর হলে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। যদিও তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি এখনো আলোচনার মধ্যে রয়েছে, তবে নির্বাচন কমিশন এই সংযুক্তির মাধ্যমে ভোটার তালিকাকে আরও নির্ভুল করার পরিকল্পনা করছে। এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতে এটি কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়।