কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের ১২ লক্ষ ওবিসি (OBC Certificate) সার্টিফিকেট বাতিল হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলমান থাকলেও, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নতুন করে ওবিসি প্রার্থীদের চিহ্নিত করতে সমীক্ষার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিবল জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ মেনে তিন মাসের মধ্যে নতুন সমীক্ষা করা হবে। তবে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে পুনরায় মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়ে আইনজীবী বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এতে সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে না বরং দীর্ঘায়িত হবে। ফলে চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।”
আরো পড়ুন- লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হতে পারে? জানুন ১লা এপ্রিলের নতুন আপডেট
কেন বাতিল হলো ১২ লক্ষ OBC Certificate?
২০২৪ সালের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, ২০১০ সালের পর পশ্চিমবঙ্গে যেসব ওবিসি সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলো অবৈধ। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, রাজ্য সরকার সঠিক নিয়ম মেনে নয়, বরং রাজনৈতিক স্বার্থে অনেককে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই রায়ের ফলে প্রায় ১২ লক্ষ মানুষের সার্টিফিকেট বাতিল হয়ে যায়।
সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশ
এই রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানায়। গত মঙ্গলবার, সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে কপিল সিবল আদালতকে জানান যে, “আমরা পুনরায় সমস্ত ওবিসি সার্টিফিকেট (OBC Certificate) যাচাই করতে চাই এবং যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করব।” এজন্য রাজ্য সরকার আরও তিন মাস সময় চেয়েছে, যা আদালত রাজ্যের এই আবেদন মঞ্জুর করেছে।
আরো পড়ুন- ভোটার কার্ডে আধার লিংক বাধ্যতামূলক! কিভাবে করবেন?
*এক ক্লিকে সব খবর, সবার আগে জানতে Click করুন!*
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মতে, “নতুন সমীক্ষার নামে অযথা সময় নষ্ট করা হচ্ছে এবং এতে চাকরিপ্রার্থী ও ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এই মামলার যত তাড়াতাড়ি শুনানি হয়ে নিষ্পত্তি ঘটে, ততই রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রী এবং চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুবিধা হবে।“
এই বিতর্ক ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলি সরকারকে একহাত নিয়ে বলছে, রাজ্য সরকারের ভুল নীতির জন্যই সাধারণ মানুষকেই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। আগামী দিনে এই মামলার শুনানি কী মোড় নেয়, তার দিকেই এখন নজর রয়েছে সকলের।