পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেছিলেন লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প (Lakshmir Bhandar Scheme)। উদ্দেশ্য ছিল, গৃহবধূরা যেন নিজেদের ছোটখাটো খরচ নিজেরাই চালাতে পারেন এবং পরিবারের উপর নির্ভরশীল না হন। তবে এবার এই প্রকল্পের টাকাও লোপাট হচ্ছে! ক্যানিং-এর ঘুটিয়ারিশরিফ এলাকায় একাধিক মহিলার কাছ থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
সাইবার ক্যাফে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ
এই চাঞ্চল্যকর প্রতারণার শিকার হয়েছেন আকলিমা গাজি, যিনি পেশায় এক হোটেলের রাঁধুনি। উনার অভিযোগ, লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা তুলতে গেলে প্রতি মাসে ৩০০ টাকা করে কেটে নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, ১০০০ টাকার বদলে হাতে আসছে মাত্র ৭০০ টাকা!আকলিমা বলেন, “আমি প্রত্যেক মাসে দোকানে গিয়ে টাকা তুলি। কিন্তু কখনোই পুরো ১০০০ টাকা পাই না। দোকানদার বলে, কিছু টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। প্রথমে ভাবতাম, হয়তো চার্জ কাটা হচ্ছে। কিন্তু পরে বুঝতে পারি, এটা একটা প্রতারণা! এবার তো পুরো টাকাটাই গায়েব করে দিয়েছে!”
কোথায় যাচ্ছে এই টাকা?
প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই দোকানদার প্রথমে ব্যাংক স্টেটমেন্ট চেক করাতে রাজি হন না। কিন্তু পরে ব্যাংকের স্টেটমেন্ট চেক করতে দেখা যায় এই মাসের সাত তারিখে একাউন্ট থেকে সমস্ত টাকা তোলা হয়েছে। এবং পরে অভিযোগকারী দোকানদারকে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখালে দোকানদার বাধ্য হয়ে বলেন, “আমি যেসব টাকা কেটে নিয়েছি, সব ফেরত দিয়ে দেব, তুমি কাউকে কিছু বোলো না।” অর্থাৎ, দোকানদার চাননি এই ঘটনা জানাজানি হোক।
স্থানীয় প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ
অপরদিকে ঘটনার পর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান প্রদীপ দাস অভিযুক্ত দোকানদারকে ডেকে পাঠান। তিনি জানান, “আমরা তদন্ত করছি। যদি অভিযোগ সত্যি হয়, তাহলে আইনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।” এই ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে!